আজকে আমি আপনাদের বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম শেখাবো। বাংলা আর্টিকেল কিভাবে
লিখতে হয়। বর্তমান সময়ে অনেকেই আছে যারা বাংলা আর্টিকেল লিখে ৩ থেকে ১৫ হাজার
টাকা মাসে ইনকাম করছে। পার্ট টাইম জব হিসেবে এটি একটি অন্যতম মাধ্যম বা ভালো একটি
উপায়। ঘরে বসেই আপনার অবসর সময়ে বাংলা আর্টিকেল লিখে ইনকাম করতে পারবেন। আর এই
আর্টিকেল লিখতে হলে আর্টিকেল লেখার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে আপনাকে অবগত হতে হবে।
সুতরাং আজকে আমি আপনাদের সঠিক কৌশলে বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম শেখাবো।
যাতে আপনারা সহজেই ঘরে বসে থেকে ইনকাম করতে পারেন। এই পোস্টটি সম্পূর্ণ
পড়লে আপনি বাংলা আর্টিকেল লেখার সকল কৌশল শিখতে পারবেন। চলুন অপেক্ষা না করে
বাংলাটিকেল লেখার নিয়ম গুলো সম্পন্নরূপে আলোচনা করি। আর অবশ্যই নিজের ধাপগুলো
অনুসরণ করে আর্টিকেল লিখবেন।
একদম সহজ ভাষায় আর্টিকেল বলতে একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সুসংগঠিত ও তথ্যবহুল
লেখা বোঝায়। যা একজন পাঠকের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে। আর্টিকেল এমন
একটি বিষয় যা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে পাঠককে সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য
প্রদান করে। সাধারণত পত্রিকা ব্লগ ওয়েবসাইট এবং অনলাইন প্লাটফর্মে প্রকাশিত এসব
লেখা পাঠকদের কে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে।
বাংলা কি ওয়ার্ড রিসার্চ করুন
একটি আর্টিকেল অনলাইনে কতটা ভিউ হবে বা ভিজিটর পাবে তা নির্ভর করে সঠিক কিওয়ার্ড
ব্যবহারের উপর। আপনি যদি এমন শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করেন যেগুলো মানুষ মোটেও
খুঁজে না। তাহলে আপনার সেই কন্টেন্ট কখনোই রেংকিং করবেনা।
তাই আপনাকে অবশ্যই বাংলা আর্টিকেল লেখার জন্য কি ওয়ার্ড রিচার্জ অত্যন্ত জরুরী
এবং আবশ্যিক একটি ধাপ। তাই আপনাকে গুগল থেকে এমন কিওয়ার্ড নির্বাচন করতে
হবে যেগুলো মানুষ সার্চ করে। আপনি যদি সঠিক নিয়মে কীওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারেন।
তাহলে আপনার আর্টিকেল সহজেই রেংক করবে।
টাইটেল বা শিরোনাম লেখার নিয়ম
একটি আর্টিকেল লেখার সময় টাইটেল বা শিরোনাম যেন ৫ থেকে ১০ শব্দের মধ্যে হয়।
আর্টিকেল টাইটেল বা শিরোনাম পড়েই যেন সহজেই বোঝা যায় যে পুরো আর্টিকেলে
বিষয়বস্তু কি। প্রতি ১০ জন পাঠকের ৮ জনই শুধুমাত্র টাইটেল বা শিরোনাম দেখে পোস্ট
না পড়ে চলে যায়। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে আর্টিকেলের টাইটেল বা শিরোনাম পছন্দ না
হওয়া।
তাই কিভাবে ৫ থেকে ১০ শব্দের মধ্যে আর্টিকেলের টাইটেল বা শিরোনাম লিখলে পাঠকের
দৃষ্টি আকর্ষিত হয় সেই নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো।
একটি পোস্টের টাইটেল বা শিরোনাম পাঁচ থেকে দশ শব্দের মধ্যে থাকতে হবে।
টাইটেল এর মধ্যে একটি বা দুইটি মেইন ফোকাস কী-ওয়ার্ড দিতে হবে। এর চেয়ে
বেশি দেওয়া যাবে না।
?, !, ।,ছাড়া অন্য কোন স্পেশাল ক্যারেক্টার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ
নিষিদ্ধ।
কেবলমাত্র দুইটি ফোকাস কিবোর্ড এর মাঝখানে হাইপেন ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভূমিকা বাটন ব্যবহারের নিয়ম
ভূমিকা বাটন একটি পাঠককে আর্টিকেল পড়তে আকৃষ্ট করে। ভূমিকা বাটন যেহেতু আর্টিকেল
রিলেটেড লিংক দেওয়া থাকে। তাই পাঠককে অন্য আর্টিকেলে যেতে বা সেই আর্টিকেলটি
পড়তে আকৃষ্ট করে। অবশ্যই আর্টিকেলের শুরুতে একটি ভূমিকা বাটন দেওয়া আবশ্যক।
ভুমিকা বাটন কিভাবে ব্যবহার করা হয় তার নিয়ম,
ভূমিতে বাটনে অন্য রিলেটেড আর্টিকেলের লিংক দেওয়া উচিত।
ভূমিকা বাটন অবশ্যই ৫ থেকে ৬ শব্দের বেশি হওয়া যাবেনা। পাঁচ থেকে ছয় শব্দের
মধ্যে এটা সীমাবদ্ধ করতে হবে।
ভূমিকা বাটন এবং আরও পড়ুন সেকশনে একই ব্লক পোষ্টের বা আর্টিকেল লিংক
দেওয়া যাবে না অর্থাৎ অন্য পোষ্টের লিংক দিতে হবে।
প্রথম অংশে ভূমিকা লেখার নিয়ম
আর্টিকেলের মধ্যে ৪ থেকে ৫ লাইনের ভূমিকা লিখতে হবে। যাতে শুরুতেই একজন পাঠক
বুঝতে পারে যে এই আর্টিকেল এর মধ্যে কি কি আলোচনা করা হবে। অনেক পাঠকই আছে যারা
শুধুমাত্র ভূমিকা পড়েই চলে যায় আর্টিকেল পড়ে। এর জন্য ভূমিকাতেই ক্লিয়ার
ইনফরমেশন না থাকে যে পুরো আর্টিকেলে কি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। এর জন্য
একটি আর্টিকেলে ভূমিকা অত্যন্ত গুরুপূর্ণ। প্রথম অংশে ভূমিকা লেখার নিয়ম,
কি বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি এই সম্পূর্ণ আর্টিকেলের মধ্যে এটি ভূমিকাতে
রাখতে হবে
মেটাল ডিস্ক্রিপশন ও ভূমিকা দুটো আলাদা আলাদা করতে হবে
ভূমিকা লেখার শুরু আগে কোন গ্যাপ রাখা যাবে না
ভূমিকার প্রথম অংশে দুই থেকে তিনবার মেইন ফোকাস কিবোর্ড ব্যবহার করতে হবে।
প্রথম লাইনের প্রথম বাইকের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে।
প্রথম অংশের ভূমিকা তিন থেকে চার লাইনের মধ্যে হলে সবচেয়ে ভালো হয়, তবে
পাঁচ লাইন হলেও সমস্যা নাই।
একটি লাইনের মধ্যে কমা ব্যবহার করে একসাথে দুই তিনটি কিওয়ার্ড ব্যবহার করা
যাবে না। উদাহরণস্বরূপ বাংলা আর্টিকেল লেখার কৌশল, বাংলা আর্টিকেল লেখার
কৌশল, কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখব। এইভাবে কমা কমা দেওয়া যাবে না।
একই ধরনের ভূমিকা অর্থাৎ একই কোয়ালিটির লেখা লেখি যাবে না। প্রত্যেকটা
পোষ্টের আলাদা আলাদা করে লিখতে হবে।
সম্পূর্ণ পোস্টের মধ্যে ১২ থেকে ১৫ বার প্রধান ফোকাস কী-ওয়ার্ড দিতে
হবে।
ফোকাস কী-বোর্ড গুলো সম্পন্ন পোস্ট এর মধ্যে সমানভাবে দিতে হবে।
সকল ধরনের কিওয়ার্ডগুলোকে বোল্ড করতে হবে এবং প্রধান ফোকাস এবং সাব
ফোকাস কিওয়ার্ড গুলোতেও।
প্রথম পেরার ভূমিকার তিন থেকে চার লাইনের পর ফিশার এর নিচে বাকি
ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে লিখতে হবে অর্থাৎ সর্বোচ্চ পাঁচ লাইন লেখা যাবে।
ফিশার ইমেজ দেওয়ার নিয়ম
ফিচার ইমেজ মূলত একটি কন্টেন্টকে আকর্ষণীয় করে তোলে যা একটি পাঠককে সেই
কনটেন্টটি পড়ার জন্য তাড়িত করে। বর্তমান যুগে শুধুমাত্র লেখা নয় বরং চিত্র
ভিডিও মাধ্যমে একটি আর্টিকেল পূর্ণতা পায়। আর্টিকেলের জন্য ফিশার ইমেজ একটি
গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
যে ইমেজ ব্যবহার করবেন সেটা অবশ্যই কপিরাইট মুক্ত হতে হবে। নয়তো আপনার
কন্টেন্ট কপিরাইট আইনের আয়তভুক্ত হতে পারে। এটা আপনাকে গুগল থেকে কপিরাইট
ফ্রি পিকচার ডাউনলোড করতে হবে। এরপর সব ফটোশপ কিংবা নানান ধরনের অ্যাপস পাওয়া
যায় যার মাধ্যমে আপনার পিকচারটি কাস্টমাইজ করে কনটেন্ট এর মধ্যে ব্যবহার করতে
হ।
নূন্যতম একটি কন্টেন্টে তিনটি ফিচার ইমেজ ব্যবহার করতে হবে। এর মাধ্যমে আপনার
কনটেন্ট পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। যা একটি আর্টিকেলের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট।
তিনটা ইমেজ প্রথম ইমে কনটেন্টের ভূমিকা এর মাঝখানে দিতে হবে। এবং বাকিগুলো
দ্রুত বজায় রেখে পর্যায়ক্রমে দিতে হবে।এর জন্য আপনি যেকোন ওয়েবসাইট ডিলিট করতে
পারেন যাতে সঠিক ভাবে বুঝতে পারবেন।
প্যারাগ্রাফ,শিরোনাম হেডিং বা সাব হেডিং বা সাব ফোকাস কিবোর্ডগুলো লেখার
নিয়ম
যখন একটি কনটেন্ট লেখা হয় তখন প্যারাগ্রাফের মাধ্যমে লিখি। এছাড়াও লেখার
বিভিন্ন অংশ হেডিং সাব হেডিং করতে হয়। যাতে করে একজন পাঠক যখন সার্চ
করবে তখন সে লেখাগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারবে।
পাঠক যেগুলো সার্চ করে এমন শব্দ যদি আপনার কনটেন্টে থাকে তাহলে গুগল দর্শকের
সামনে আপনার কন্টেন কে নিয়ে যাবে যাতে করে আপনার ওয়েবসাইটের ভিউ বাড়বে। তাই
আপনাকে অবশ্যই একটি কন্টেন্টের মধ্যে প্যারাগ্রাফ শিরোনাম হেডিং বা সাব ব্যবহার
করতে হবে।
আরো পড়ুন সেকশন ব্যবহারের নিয়ম
আপনার কনটেন্ট এর মধ্যে আরো করুন সেকশন ব্যবহার করতে হবে। সর্বোচ্চ একটি কনটেন্টে
দুই থেকে তিনটা আরো পড়ুন সেকশন ব্যবহার করতে পারবেন। আরো পড়ুন সেকশনে
আপনার ওয়েবসাইটের অন্য একটি কনটেন্ট লিংক করে দিতে হবে। যাতে করে একজন পাঠক
অন্য কনটেন্ট গুলো দেখতে পাবে। এতে করে আপনার ওয়েবসাইটের ভিউ বাড়বে এবং সহজেই
র্যাংক করবে।
পাঠকের দৃষ্টিতে সেরা আর্টিকেল
পাঠকরা সবসময়ই তথ্যবহুল এবং সাজানো গোছানো আর্টিকেল পছন্দ করে। একজন পাঠক যেই
ইনফরমেশনের জন্য সে আর্টিকেলটি পড়তে এসেছে সেই তথ্যটি পূর্ণাঙ্গ রূপে দিতে
হবে। আর্টিকেল সহজ ভাষায় লিখতে হবে যাতে করে পাঠক আপনার লেখা সহজেই বুঝতে পারে।
ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে লেখা যাবে।
যেহেতু google এ আপনি অনেক ওয়েবসাইট পাবেন, সেখান থেকে আপনি যেই টপিক্সের উপরে
আর্টিকেল লিখবেন সেই সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেবেন। যেন অন্য ওয়েবসাইটের চেয়ে
আপনার আর্টিকেল ভালো হয়। এতে করে আপনার ভিজিটর অনেক বাড়বে।
আর্টিকেল লেখার সময় তথ্য কোথায় পাবো
আর্টিকেল লেখার জন্য আপনার কনটেন্টে তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি
তথ্যগুলো সহজেই গুগলের সার্চ করে একাধিক ওয়েবসাইট ভিজিট করে আপনাকে তথ্যগুলো
নিতে হবে। অবশ্যই আপনি যেই তথ্যগুলি ব্যবহার করবেন সেগুলো পুরোপুরি সঠিক
হতে হবে।
একাধিক ওয়েবসাইট থেকে জ্ঞান নিয়ে আপনার মত করে কনটেন্ট লিখতে হবে। যাতে করে
কপিরাইট মুক্ত হয়।
লেখার শেষ কথা বা কনক্লুশন লেখার নিয়ম
সম্পূর্ণ আর্টিকেল লেখা হলে শেষে যে বিষয়বস্তুর ওপর আপনি আর্টিকেল লিখেছেন সেই
বিষয় সম্পর্কে আপনার কিছু মতামত দিতে হবে। পুরো ব্লগ পোস্ট বা আর্টিকেল লেখা শেষ
হয়ে গেলে আপনার ব্যক্তিগত মতামত 5 থেকে ৪ লাইনের মধ্যে শেষ করতে
হবে। কনক্লুশন বা লেখক এর শেষ কথা লিখার নিয়মঃ
একটি আর্টিকেল এর মধ্যে লেখকের শেষ কথা সর্বোচ্চ ২০০ ওয়ার্ড এর মধ্যে হতে
হবে।
শেষ কথা লেখার সময় একটি প্যারাই সর্বোচ্চ চার লাইন রাখা যাবে। চার লাইন লেখার পর
আরেকটি প্যারা দিতে হবে।
শেষে কিছু কথা
বাংলা আর্টিকেল লেখার যে নিয়ম গুলো আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে সেগুলো আমি এই
কনটেন্ট এর মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনি সমস্ত কনটেন্টই পড়লে একটি
আদর্শ আর্টিকেল রাইটার হতে পারবেন। যদি আপনার এই কনটেন্টটি ভালো লাগে শেয়ার করতে
ভুলবেন। সম্পূর্ণ কনটেন্ট মনোযোগ দিয়ে পড়লে আর্টিকেল লেখার সঠিক নিয়ম
গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটর। আমি আর্টিকেল লেখা থেকে শুরু করে সব ধরনের ডিজিটাল মার্কেটিং কাজ সম্পর্কে অবগত আছি। সব সময় আপনাদের সেরা কিছু দেওয়ার চেষ্টা করি।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url